ডেস্ক রিপোর্ট : দেশজুড়ে বিদ্যমান তীব্র শীতে রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে কৃষকরা। ইতোমধ্যে প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো ধানের বীজতলার ক্ষতি হচ্ছে।

সরিষার ফুল মাঠেই ঝরে পড়ছে। তাছাড়া শাকসবজি, পেঁয়াজ, ডালসহ অন্যান্য ফসলে কোল্ড ইনজুরি ও পোকার আক্রমণ হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট চারটি নির্দেশনা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সব ধরনের সহযোগিতা করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে কুয়াশায় রবি ফসলের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। শীত ও কুয়াশা অব্যাহত থাকলে শীতকালীন শাকসবজি ও বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হতে পারে। ঝরে যেতে পারে আগাম জাতের আম গাছে আসা মুকুল। তবে ফসল রক্ষায় এখন থেকেই কার্যকর ভূমিকা নিলে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। ওই লক্ষ্যেইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদিও চলমান শীত পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো ধরনের সুখবর নেই। অন্তত আরো কয়েক দিন মাঝারি থেকে তীব্র শীতের অনুভূতি থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে ফসল রক্ষায় চার ধরনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, কুয়াশা ও তীব্র শীতের এ অবস্থায় ফসলের বীজতলায় ৩-৫ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে। স্বচ্ছ পলিথিনের ছাউনি দিয়ে বীজতলা দিনরাত ঢেকে রাখতে হবে।

তবে পলিথিন যাতে চারার পাতা যাতে স্পর্শ না করে তা খেয়াল করতে হবে। পাশাপাশি ঢেকে রাখা বীজতলায় পানি সকালে বের করে দিয়ে আবার নতুন পানি দিতে হবে। একই সঙ্গে চারার ওপর জমে থাকা শিশির ঝরিয়ে দিতে হবে। আর প্রতি দশ লিটার পানিতে ৭০-৮০ গ্রাম থিওভিট অথবা কমুলাস ভালোভাবে মিশিয়ে ৪-৫ শতাংশ বীজতলায় স্প্রে করতে হবে।

সূত্র জানায়, ফুলকপি-বাঁধাকপি ও ব্রকলি শীতকালীন সবজি হলেও প্রচন্ড ঠান্ডা ও কুয়াশায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেজন্য অনুজীব ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তাছাড়া আলু ও টমেটোতে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম নাবিদশা রোগ। ওই পরিস্থিতিতে কৃষক বিকালের দিকে প্রাকৃতিক কীটনাশক ব্যবহার করতে পারে। শিমে একধরনের মরিচা রোগ হয়। এমন আবহাওয়ায় ওই রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। আর বোরো ধানের চারার জন্য এমন আবহাওয়া অনেক বড় সমস্যা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে কোল্ড ইনজুরি হয়ে চাড়া অনেক সময় মরে যায়, ঝলসে যায়। সেজন্য চারা রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। দিনে পলিথিন সরিয়ে রাখতে হবে। চারায় সব সময় মাটির নিচ থেকে তোলা পানি ব্যবহার করতে হবে। পুকুর থেকে পানি দেয়া যাবে না। কারণ পুকুরের পানি অনেক ঠান্ডা। তাতে চারার আরন্ ক্ষতি হবে। তাছাড়া প্রচণ্ড কুয়াশায় সরিষা পাতা ঝলসে এবং ফুল ঝড়ে যায়। পেঁয়াজের ক্ষেত্রে পাতা পচে যায়। এমনটা হলে কৃষককে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। প্রতিকার হিসাবে কৃষকদের এখন থেকেই ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, বতমানে দেশে তীব্র শীতের সঙ্গে বইছে শৈত্যপ্রবাহ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় শীতকালীন শাকসবজি ও ফসলে পোকার আক্রমণ বেড়েছে। হলদে হয়ে ঝরে যাচ্ছে পান। শীতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বোরো রোপণে বিলম্ব হচ্ছে। যে পরিমাণ শীত পড়ছে তাতে একটু দেরিতে বীজতলা তৈরি করতে হবে। তবে সময়মতো বোরো চাষ না করলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা দোটানার মধ্যে পড়েছে।

শীতের সময়ে কুয়াশার কারণে বোরো ধানের বীজতলায় লালচে রং হয়ে যায়। কৃষকরা নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে বীজতলা কুয়াশা থেকে ভালো রাখার চেষ্টা করছে।

এদিকে দেশে তীব্র শীত ও কুয়াশায় ফসলের যাতে কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতটি জেলায় মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের সহযোগিতা করছে। পাতা ঝরে যাওয়া রোধ, সবজি ও ফসলের পোকা আক্রামণ ঠেকাতে কৃষককে নানা রকমের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। শীত-কুয়াশায় বীজতলায় যাতে পানি জমে না থাকে সেদিকেও লক্ষ রাখা হচ্ছে। রাতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে বলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। ফলে ফসল নষ্টের আশঙ্কা এখনো কিছুটা কম।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন জানান, এমন শীতের সময় বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, আলু, টমেটো, বেগুন, শিমের চাষাবাদ হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় বোরো ধানের বীজতলা করা হচ্ছে। তাছাড়া পেঁয়াজ আবাদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। আর প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় সেগুলো সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে।