স্টাফ রিপোর্টার : কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার বা স্বেচ্ছাসেবীদের কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবাবিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্রের আওতায় এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা জরুরি বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।

মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারী) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর সিমবায়োসিস হল রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ময়মনসিংহ বিভাগীয় পর্যায়ের এ সভা আয়োজন করেছে সিরাক বাংলাদেশ।

সিরাক বাংলাদেশের সহযোগি পরিচালক (প্রোগ্রাম) মোঃ সেলিম মিয়া'র সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মাহফুজুল করিম।

প্রধান অতিথি হিসেবে হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক কামাল হোসেন, নেত্রকোনা জেলা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের উপ-পরিচালক নিরঞ্জন বন্ধু দাম, পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি রফিকুল ইসলাম ও আজিজুর রহমান, কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর মেডিকেল অফিসার, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারবৃন্দ,ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ২০ জন ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডারগণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা উপকৃত হচ্ছে। তাই এই প্রকল্পে নিয়োজিত পিয়ার ভলান্টিয়ারদের সেবা প্রদানে আরো আন্তরিক হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, সিরাকের পিয়ার ভলান্টিয়ার ও সরকারি কর্মকতাদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে করে এই কাজকে আরো গতিশীল করতে হবে।

সভায় কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডারদের সংযুক্তিকরণে যৌক্তিকতা, সেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত পদক্ষেপসমূহের বিষয় বিশদ আলোচনা, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম শক্তিশালী করণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সভায় সিরাক বাংলাদেশের এসোসিয়েট প্রোগ্রাম অফিসার মো: শফিউল্লা লিমন প্রজেক্টরে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ভলান্টিয়ার পিয়ার লিডার বা স্বেচ্ছাসেবীদের কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য তথ্য বিষয়ক একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করেন।

উল্লেখ্য, কিশোর-কিশোরীদেও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তার সাপেক্ষে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে ও সিরাক বাংলাদেশ 'সুখী জীবন' নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণার নির্বাচিত ২০টি কৈশোর-বান্ধব সেবাকেন্দ্রের প্রতিটিতে ২জন করে (১জন ছেলে এবং ১জন মেয়ে) ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি ভিপিএল বা স্বেচ্ছাসেবী অন্তর্ভুক্তিকরণের মাধ্যমে কেন্দ্রগুলোর বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা ও মানসম্মত সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 'সুখী জীবন' নামে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে পাথফাইন্ডার ইন্টারন্যাশনাল। অর্থায়ন করেছে ইউএসএআইডি।