নিজস্ব প্রতিনিধি : মো. রাজন মিয়া (৩২)। বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বাহের বানাইল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মো. ইদ্রিস আলীর বড় ছেলে।

অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে দার-দেন করে গিয়েছিলে সৌদি আরবে। তিনি সৌদিতে যাওয়ার পর স্বজনেরাও সুখের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনা তাঁর জীবনে কাল হয়ে আসে। বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে মারা যান রাজন। বহু চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজনের লাশ দেশে আনা হয়েছে।

নিহত রাজনের পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৭ মাস আগে শ্রমিকের ভিসা নিয়ে রাজন সৌদি আরবে যান। জেদ্দার জিদান শহরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ পান। ১৭ মাস হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের ২ লাখ টাকার মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। এ ছাড়া গ্রামের কিছু লোকের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করেন।

১ জানুয়ারি কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান তিনি। গতকাল বিকেলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে তাঁর লাশ। স্বজনেরা ওই দিন সন্ধ্যার পর লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। রাত ১০টার দিকে জানাজা শেষে বাড়ির সামনে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

রাজনের ছোট ভাই হোসাইন আহমেদ বলেন, ১ জানুয়ারি গোসলের পর লুঙ্গি শুকাতে গিয়ে তাঁর ভাই জেনারেটরের তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। পরে সহকর্মী সাইফুল ইসলাম তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তার অভিযোগ নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের অসহযোগিতার কারণে তাঁর ভাইয়ের লাশ দেশে আনতে সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় লেগেছে। কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। দেশে দাফন-কাফনের খরচের জন্য প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাড়ির ভেতরে অঝোরে কেঁদে চলেছেন রাজনের স্ত্রী সোমা আক্তার। বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। রাজন মিয়ার দুই শিশু সন্তান অলিউল্লাহ আহসান (৮) ও সায়মা আক্তার (৩) এখনো বুঝতে পারছে না তাদের বাবা চলে গেছেন চির ঘুমের দেশে।

নিহত রাজনের মা হাজেরা খাতুন কান্নাও থামছে না। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, মৃত্যুর আগের দিনও দেশে টাকা পাঠিয়েছে। আমার এ ছেলে পরিবারের প্রতি এতই দায়িত্বশীল ছিল। সেই টাকা এখনো ব্যাংকে পড়ে আছে। এরপর তিনি স্তব্ধ হয়ে যান, আর কথা বলতে পারেননি।