নিজস্ব প্রতিনিধি : আগামী ৯ মার্চ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নিবার্চনকে সামনে রেখে তুঙ্গে রয়েছে প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা। মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনজন প্রার্থীর প্রচারণায় সরগরম ভোটের মাঠ।

গত রোববার (৩ মার্চ) রাতে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর গণসংযোগে হামলার অভিযোগ উঠে টেবিল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

হামলার ঘটনায় সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু ভোট অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কার কথা জানান ঘোয়া প্রতীকের প্রার্থী এহতেশামুল আলম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত রোববার দিনব্যাপী প্রচারণা শেষে রাতে ১৩ নম্বর ওর্য়াডের বাঁশবাড়ি কলোনীতে প্রচারণার সময় ঘড়ি ঘড়ি স্লোগানে আমিসহ নেতাকমীর্দের ওপর হামলা চালানো হয়। এসময় স্থানীয়রা আমাকে আগলে ধরায় রক্ষা পাই। হামলা নেতৃত্ব দিয়েছে জাহাঙ্গীর মৃধা, শামীম, সুজন, প্রবান, শান্ত এবং অমিতসহ ৩০ থেকে ৩৫জন অতর্কিত হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।

এবিষয়ে স্থানীয় রেদওয়ান আহমেদ নামে একজন থানায় অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নিবার্চন কমিশনেও অভিযোগ দেয়া হয়েছে। তারা যদি সিসি টিভির ফুটেজ পযার্লোচনা করে তাহলেই ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা বেরিয়ে আসবে। যখন ঘোড়া প্রতীক জয়ের দ্বারপ্রান্তে যাচ্ছে তখনেই একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। এর আগে আমার গণসংযোগে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এতে আমার তিনকমীর্ আহত হয়। তারা ভাবছে এসব করলেই আমি পিছিয়ে যাবো, কিন্তু আমিতো পিছিয়ে যাওয়া মতো মানুষ না। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পিছিয়ে পরার জন্য নিবার্চনে দাঁড়ায়নি। সংসদ সদস্য মোহিত উর রহমান শান্তর উৎসাহে আমি প্রার্থী হয়েছি।

ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরপরেই মোহিত উর রহমান শান্ত ও হাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাকেদুল হক খান মিল্কী টজু আমার খোঁজ নিয়েছেন। ইকরামুল হক টিটু ইচ্ছ করলে আমার খোঁজ নিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি। তারা লুটপাটসহ সন্ত্রাসী রাজনীতি করে ময়মনসিংহের পরিবেশ উত্তপ্ত করছে। আমি আমার নেতাকর্মীদের সবসময় শান্ত রাখার চেষ্টা করছি। আইনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বিচারের ভার তাদের কাছে দিয়েছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ—সভাপতি অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম সাজ্জাদ জাহান শাহীন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক বুলবুল আহমেদ, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শরাফ উদ্দিন আহম্মেদ বায়োজিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোস্তুফা মামুনুর রায়হান অসীম, সদস্য কাজী আজাদ জাহান শামীম প্রমূখ।

সকালে আদালত প্রাঙ্গনে টেবিল ঘড়ি প্রতীকে গণসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলিকালে সাবেক মেয়র ইকরামুল হক টিটু। এসময় ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নিবার্চনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে। কারো গণসংযোগে যদি হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে আমি পুলিশকে আহবান জানাবো তাদেরকে বের করে যেনো শাস্তির আওতায় আনে।

দুপুরে নগরীর ভাটিকাশর এলাকায় প্রচারনা চালান হাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু। হাতি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাদেকুল হক খান মিল্কী টজু বলেন, পুরোপুরি এমপি শান্ত অনুসারীদের সমর্থন আমার পক্ষে থাকায় প্রচার প্রচারণার গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। পরিবর্তনের লক্ষ্যে সাধারণ ভোটাররা মুখিয়ে আছে ভোট দেওয়ার জন্য।

দূর্গাবাড়ী এলাকায় প্রচারণা চালান জেলা জাতীয় পাটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম স্বপন মন্ডল। এসময় তিনি বলেন, প্রচারণায় লাঙ্গলের পক্ষে ব্যাপক সাড়া রয়েছে। মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে লাঙ্গল প্রতীক জয়ী হবে। তবে ভোটের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে হবে।

ময়মনসিংহ সিটিতে ভোটার ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৮৩২ পুরুষ, ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫৫ নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯ জন। তারা আগামী ৯ মার্চ ইভিএমে ১২৮ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। মেয়র পদে পাঁচ প্রার্থী ছাড়াও নগরের ৩৩টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রার্থী ১৪৯ এবং ১১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে প্রার্থী আছেন ৬৯ জন। নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডে ফরহাদ আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায় কাউন্সিলর পদে ৩২ ওয়ার্ডে শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।