হালুয়াঘাট প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পূর্ব শত্রুতার জেরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রী দুই শিক্ষকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় শিক্ষিকা নাছিমা খাতুন বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ২১ শে মে হালুয়াঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম মনিকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা খাতুন ও তার স্বামী রহেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জাফর আলী পৌর শহরের আকনপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তার প্রতিবেশী মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন বাড়ির সীমানা নিতে কথা কাটাকাটির জেরে গত ২০ মে সকালে ঐ শিক্ষিকার বসতঘরের জানালা দিয়ে ভেতরে টয়লেটের পঁচা মল ছিটিয়ে দেয় ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

এতে ঘরের বিছানা সহ ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট হয়। পরে জানালা বন্ধ করতে গেলে সোহেল তার হাতে লাঠি দিয়ে শিক্ষিকার হাতে আঘাত করে। বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবগত করলে সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ২১ মে সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে লাঠি-সোটা নিয়ে বসতঘরে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে হাতে থাকা লাঠি দিয়ে প্রধান শিক্ষিকা নাছিমা ও তার স্বামী সহকারী শিক্ষক জাফর আলীকে পিঠিয়ে আহত করে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষিকা নাছিমা।

এ ঘটনায় ঐ শিক্ষিকা তাৎখনিক থানায় ফোন দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আহত স্বামী স্ত্রী দুই শিক্ষক হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। বর্তমান তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শিক্ষিকা নাছিমা খাতুন বলেন, বসত ঘরের দেয়ালের পশ্চিম পাশে তাদের বাড়ির দেয়াল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য অনুমতি চায় সোহেল ও তার পরিবার। এতে রাজি না হওয়ায় সোহেল ও তার পরিবারের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এদিকে সোহেলকে বাড়ি না পাওয়া গেলেও তার মা হাজেরা খাতুন বলেন, শিক্ষিকা নাছিমা কিছুদিন পূর্বে একতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। তার ভবনের ছাদেও সমস্ত পানি আমার বাড়ির ভেতর দিয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বলার পরেও সে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এ নিয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়। তবে মারামারির কোন ঘটনা ঘটেনি। তার ছেলে সোহেল বাড়ির জানালা দিয়ে নাছিমার ভবনের ছাদের জমানো পানি জানালা দিয়ে তার ঘরে ছুড়ে মেরেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

এ বিষয়ে হালুয়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. মাহবুবুল হক বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।