মাজহারুল ইসলাম মিশু : ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলায় একসময় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। দিনদিন মোবাইলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে টেলিফোনের চাহিদা কমতে কমতে তলানিতে এসে ঠেকেছে। গ্রাহক সেবা পূরণ করতে না পাড়ায় এর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পৌর শহরের উত্তর খয়রাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত জরাজীর্ণ টেলিফোন ভবনে অনেকটা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এর কার্যক্রম। অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলার টেলিফোন ব্যবস্থা আরো খারাপ। সেখানে নামে মাত্র একটি সংযোগ আছে।

হালুয়াঘাট টেলিফোন অফিসের তথ্যমতে, পৌর শহরের উত্তর খয়রাকুড়ি টেলিফোন ভবন থেকে উত্তর বাজার পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলছে এর কার্যক্রম। বর্তমানে ১শত জন গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অফিসে সংযোগ রয়েছে ৪০টি ও ব্যক্তিগত সংযোগ রয়েছে ৬০ টি। ৩০টি সংযোগ নিয়ে ইন্টারনেট সেবা চালু করলেও বর্তমানে ৮টি লাইন সক্রিয় রয়েছে।

জানা যায়, ১৯৯০ সালে হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলায় টেলিফোন সংযোগ প্রথম আসে। এনালগ পদ্ধতিতে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ১০০টি লাইন সক্রিয় ছিল। এরপর আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পেতে থাকে টেলিফোন সেবা। এনালগ থেকে সিভি স্যান্টাল ব্যাটারী সিস্টেম এর মাধ্যমে আস্তে আস্তে উন্নত হতে থাকে টেলিফোন সেবা।

১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উপজেলায় সংযোগ বেড়ে দাড়ায় ২০০টি। ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উপজেলায় মোট ৫০০ টি সংযোগ ছিল। পৌর শহরের সীমানা ছাড়িয়ে টেলিফোন সেবা পৌছে গিয়েছিলো ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধারা বাজার পর্যন্ত। মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া লাইনে ২০১৩ সাল পর্যন্ত সংযোগ লাইন কিছুটা ভালো ছিলো।

এ বিষয়ে টেলিফোন অফিসের লাইনম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, আমি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এখানে কর্মরত আছি। তৎকালীন ঠিকাদার যে লাইন মাটির নিচ দিয়ে দিয়েছিলো সেটির পয়েন্ট থাকার কথা ছিল ৬টি। কিন্তু নিন্মমানের ৪টি পয়েন্টের তার সেখানে ব্যবহার করা হয়। ফলে ২০১৩ সালের পর থেকেই মাটির নিচের সংযোগ লাইনে ত্রুটি দেখা দিতে থাকে। ফলে আমাদের ৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ধারা বাজারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর চলে আসে মোবাইল ফোন। একদিকে গ্রাহকের সেবা ঠিকমতো পূরণ করতে না পারায় আস্তে আস্তে কমতে থাকে সংযোগ। ঝড় বৃষ্টিতে সংযোগে মাঝে মধ্যেই ত্রুটি দেখা দেয়। গত ২০২৩ সাল পর্যন্ত আমাদের গ্রাহক ছিলো ১৬৬ জন। বর্তমানে আমাদের গ্রাহক রয়েছে ১০০ জন।

অন্যদিকে ২০১৪ সাল থেকে ইন্টারনেট সেবা টেলিফোন অফিসে চালু হলেও আমরা ২০২৩ সাল থেকে এ সেবা উপজেলার চালু করি। প্রথমে ৩০ জন গ্রাহক ছিলো। কিন্তু ইন্টারনেট গতি কম থাকায় আমাদের ইন্টারনেট গ্রাহকও কমে যায়। বর্তমানে ৮জন গ্রাহক আমাদের ইন্টারনেট সেবা নিচ্ছে। হালুয়াঘাট টেলিফোন অফিসে বর্তমানে ২জন লাইনম্যান রয়েছেন।

হালুয়াঘাট টেলিফোন অফিস থেকে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহারকারী আলমগীর হোসেন বলেন, গরুর গাড়ির মতো চলছে ইন্টারনেট। বর্তমান সময়ে যা খুবই কষ্টদায়ক। এভাবে চলতে থাকলে আমিও ইন্টারনেট বন্ধ করে দেবো। অনেকেই ইতিমধ্যেই সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। একটু ঝড় বাতাসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

অন্যদিকে ধোবাউড়া উপজেলার দায়িত্বে থাকা লাইনম্যান নুর ইসলাম বলেন, এখানে শুধু মাত্র নির্বাচন অফিস ছাড়া অন্য কোথাও টেলিফোন সংযোগ নেই। যদিও সেই সংযোগটিও বেশীরভাগ সময় নষ্ট থাকে। ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত ১০০ জনের উপর গ্রাহক ছিল। তবে উপজেলার ৫টি সরকারি অফিসে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগে টেলিফোন, তারসহ অনেক সরমঞ্জাম অফিস থেকে পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ টেলিফোন অফিসের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক আব্দুল মফিজ বলেন, আমরা মাটির নিচ দিয়ে উন্নতমানের ফাইবার তার দিয়ে টেলিফোন লাইন দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। এটি সম্পন্ন হলে টেলিফোন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে।