স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহ জেলায় বোরো আবাদ মৌসুমে খাদ্য অধিদফতরের ধান সংগ্রহ অভিযান চলছে কচ্ছপের গতিতে। খাদ্য অধিদফতরের হয়রানির পাশাপাশি সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজার দর বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। একারণে লক্ষ্যমাত্রার ধান সংগ্রহ নিয়ে শংকা দেখা দিয়েছে। তবে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনও আগস্ট মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে ধান সংগ্রহের জন্য।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের তথ্য মতে, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে প্রতিকেজি ২৬ টাকা দরে জেলায় খাদ্য অধিদফতরের বোরো আবাদের ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৭শ’ ৭৩ মেট্রিক টন। সেই অনুযায়ী গত ১০ মে থেকে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় খাদ্য গুদামে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী সোমবার(২৯ জুন) পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪৩ হাজার ৭শ’ ৭৩ মেট্রিক টনের বিপরীতে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে পুরো জেলায় মাত্র ৭শ’ ৬৭ মেট্রিক টন। এই হিসেবে ৪৯ দিনে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ অর্থাৎ পৌনে দুই শতাংশ।

উপজেলা ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ অভিযানের অগ্রগতি হিসেবে ময়মনসিংহ সদর ও সিএসডি গুদামে লক্ষ্যমাত্রার ৩ হাজার ৪শ’ ৬৬ মেট্রিক টনের বিপরীতে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ২৬৮ মেট্রিক টন, মুক্তাগাছা উপজেলায় ৩ হাজার ৪শ’ ১৫ মে.টন এর বিপরীতে ৬৬ দশমিক ৮ মে.টন, ফুলবাড়িয়া উপজেলায় ৩ হাজার ৭শ’ ৮ মে.টন এর বিপরীতে মে.টন, ত্রিশাল উপজেলায় ৩ হাজার ৫শ’ ৪ মে.টন এর বিপরীতে ০ মে.টন, গফরগাঁওয়ে ৩ হাজার ৭শ’ ৮১ মে.টন এর বিপরীতে ০ মে.টন, ভালুকা উপজেলায় ২ হাজার ৪শ’ ১৩ মে.টন এর বিপরীতে ৬৫ মে.টন, নান্দাইলে ৩ হাজার ৮শ’ ৯৯ মে.টন এর বিপরীতে ৪৯ মে.টন, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ৩ হাজার ৫শ’ ৮০ মে.টন এর বিপরীতে ৬৫ মে.টন, গৌরীপুরে ৩ হাজার ৬শ’ ৮ মে.টন এর বিপরীতে ০ মে.টন, ফুলপুরে ৩ হাজার ৮শ’ ৬৪ মে.টন এর বিপরীতে ৪০ দশমিক ৩২ মে.টন, তারাকান্দায় ২ হাজার ৮শ’ ৪৬ মে.টন এর বিপরীতে ৩ মে.টন, হালুয়াঘাটে ৩ হাজার ৪শ’ ২০ মে.টন এর বিপরীতে ১২৫ মে.টন ও ধোবাউড়ায় ২ হাজার ২শ’ ৬৯ মে.টন এর বিপরীতে ৭০ মে.টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ সদরের চরঈশ্বরদিয়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এবার সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া প্রতিকেজি ২৬ টাকা দরের বোরো ধান বর্তমান বাজারে প্রায় ২৮ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। বাজার দর বেশি হওয়ায় কৃষকরা ধান গুদামে দেয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তিনি আরও জানান, এর আগে গেল বছর সরকারী খাদ্য গুদামে বোরো ও আমন ধান বিক্র করতে গিয়ে নানা ধরণের হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল। খাদ্য কর্মকর্তাদের কাছে হয়রানির শিকার কৃষকরা ধান গুদামে বিক্রি করতে তেমন একটা ইচ্ছুক না। এবার ধান সংগ্রহ অভিযান সফলহবে না দাবি করেছেন এই কুষক।

এবিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, বাজারে কৃষকরা ধানের ভাল দর পাওয়ায় খাদ্য গুদামে ধান দিতেতেমন একটা আগ্রহী হচ্ছে না। তবে দুই মাস সময় হাতে আছে এই সময়ে কৃষকদের সচেতন করে সংগ্রহ অভিযান সফল করা যাবে বলছেন তিনি।

১ মে থেকে শুরু করে ধান সংগ্রহের সর্বশেষ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত। অভিযানের ৪৯ দিনে পৌনে দুই শতাংশ সংগ্রহের বিপরীতে বাকী মাত্র ৬০দিনে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ শতাংশ বোরো ধান সংগ্রহের সফলতা নিয়ে শংকিত কৃষকরা।