ময়না আকন্দ : ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ ও মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ১লক্ষ ৫০হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। প্লাবিত এলাকার জনসাধারণ তাদের গৃহ পালিত পশু গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস-মুরগী এবং শুকনো খাবার নিয়ে উঁচু স্থান এবং আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছে।

সোমবার দুপুরে পর্যন্ত জেলার ৬টি উপজেলার ২৭টি ইউনিয়নের প্রায় ১লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো.নায়েব আলী। তিনি আরো বলেন, জেলার ৪৬১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে আনা নেয়ার জন্য ইঞ্জিন চালিত ১২টি নৌকা প্রস্তুত আছে।

জামালপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপের নিয়ন্ত্রক আব্দুল মান্নান জানান,বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে সোমবার বিকাল পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৮৬সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার প্রায় ২৭টি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১লক্ষ ৫০হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ, চুকাইবাড়ি, চিকাজানী ইউনিয়ন ও পৌর শহরের আংশিক এবং ইসলামপুর উপজেলার পার্থশী, কুলকান্দি, বেলগাছা, চিনাডুলি, নোয়ারপাড়া ও সাপধরী ইউনিয়ন, বকসীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া, মেরুরচর, নিলক্ষিয়া ও বগারচর ইউনিয়নসহ সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬টি উপজেলার প্রায় ১লক্ষ ১৫০হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে আমন ধানের বীজতলা, পাট, আখ, বাদাম ও সবজির খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

সাবধুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন (বিএসসি) জানান, এ ইউনিয়নের প্রজাপতি, চরশিশুয়া, চরনন্দনের পাড়া, আমতলী, কাশারীডোবা, কটাপুর, আকন্দপাড়া, মন্ডলপাড়া ও চেঙ্গানিয়া এলাকার প্রায় ৫হাজার বাড়ীঘরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে কৃষকের পাট ও আউশ ধানের খেত তলিয়ে গেছে।

বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে যমুনার দ্বীপ চরের অধীকাংশ বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার বাদাম খেত, বীজ তলা, শাক-সবজি, আখ ও পাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়াই কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. জামাল আব্দুন নাছের বাবুল, ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ।