ডেস্ক রিপোর্ট : সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। গত বছরের এই দিনে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। করোনা বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনটি পালনে জাতীয় পার্টি, এরশাদ ট্রাস্ট ও ব্যক্তিগতভাবে বেগম রওশন এরশাদের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের কোচবিহারে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তাঁর পরিবার রংপুরে চলে আসে। রংপুরেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ’৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে ’৫২ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এরশাদ। ’৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়ে ’৭১-৭২ সালে সপ্তম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। ’৭৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ওই বছরই আগস্টে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে তাঁকে সেনাবাহিনীর উপপ্রধান নিয়োগ করা হয়। ’৭৮ সালের ডিসেম্বরে এরশাদ সেনাবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ পান। ’৭৯ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করেন। ’৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন। ’৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন। ’৯১ সালে এরশাদ গ্রেফতার হন। সে বছর জেলে অন্তরিন অবস্থায় এরশাদ রংপুরের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ’৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদের পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ’৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এরশাদের জাতীয় পার্টি ১৪টি আসনে জয়ী হয়। ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে মহাজোট গঠন করেন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে তাঁর দল ২৭টি আসনে বিজয়ী হয়। এরপর দশম ও সবশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নির্বাচিত হন। চলতি জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন এরশাদ।

এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জাতীয় পার্টি। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও এরশাদের আতুর ঘর রংপুরেও নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক কর্মসূচি পালন করবে তার প্রতিষ্ঠিত দল জাতীয় পার্টি। কর্মসূচির মধ্যে সকালে রংপুরের পল্লী নিবাসের হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত। বিকেল ৪টায় জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যরা অংশ নিবেন।

এছাড়াও রংপুরে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি ছাড়াও দলীয় কার্যালয়ে কালো ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ, কোরআন খতম, সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, মিলাদ মাহফিল এবং আলোচনা সভার আয়োজন করেছে জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি। এদিকে গেল কয়েক ধরেই দলের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি, স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, শ্রমিক পার্টিসহ অন্যরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।