স্টাফ রিপোর্টার :  ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই খুন হয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাসুদুর রহমান শুভ্র। এর সাথে ছিল নিজের ও দলীয় জনপ্রিয়তার ঈর্ষা। আর তাই পথের কাটা সরাতে প্রতিপক্ষ বর্তমান পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম কাজে লাগান শুভ্রর ব্যক্তিগত শত্রু আটক বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ ও তার সহযোগীদের। এই অভিযোগ পরিবার, স্বজন ও দলের নেতা কর্মীসহ গৌরীপুরের নানা শ্রেনী পেশার মানুষের।

এদিকে, গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ড বিআরডিবির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলায় পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদসহ ১৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে এই মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত শ্রভ্রর সহোদর আবিদুর রহমান।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহান উদ্দিন মামলা দায়েরের খবর নিশ্চিত করেছেন। এই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদসহ ৪ জনকে পুলিশ ঘটনার পর পরই গ্রেফতার করেছে। পৌর মেয়র রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, গত শনিবার রাতে গৌরীপুর পৌর এলাকার মধ্যবাজারে কয়েক সহযোগী নিয়ে চা খাচ্ছিলেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পল্লী উন্নয়ন বোর্ড-বিআরডিবির স্থানীয় চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র। এসময় বিএনপি নেতা ও মইলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একদল সন্ত্রাসীর হামলায় পাশের একটি ফার্মেসীকে খুন হন শুভ্র।

পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, গৌরীপুর পৌরসভার আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ছিলেন শুভ্র। মেয়র প্রার্থী শুভ্রর জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পথের কাটা সরাতেই ব্যাক্তিগত শত্রু ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদ ও ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে এই হত্যাকান্ড ঘটায় নব্য আওয়ামীলীগ নেতা পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। শুভ্রর ছোট ভাই আবিদুর রহমান আবিদ অভিযোগ করে জানান, এই হামলায় পৌর মেয়র রফিক ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদ জড়িত।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়,হত্যাকান্ডের পর পরই পুলিশের হাতে গ্রেফতার প্রায় দুই ডজন খানেক মামলার আসামী গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মইলাকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদের সাথে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধ ছিল শুভ্রর। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে একাধিকবার হামলা পাল্টা হামলাসহ মামলার ঘটনাও রয়েছে। পথের কাটা সরাতে পৌর মেয়র এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন বলে মনে করছেন দলের নেতা কর্মীরাও।

শুভ্রর চাচা খলিলুর রহমান জানান, আক্রান্ত হতে পারেন এমন আশঙ্কার কথা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে আগাম জানিয়েছিলো শুভ্র। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গৌরীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরির কথাও জানিয়ে তিনি বলেন এর আগেও গত ২০০৯, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে ৩বার শুভ্রকে হত্যা চেষ্টা করা হয়।

মুঠোফোনে শুভ্র হত্যাকান্ডের সাথে কোনভাবেই জড়িত নন বলে দাবি করেছেন পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি মহল রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও কোনঠাসা করতেই এই ধরনের অপপ্রচারে নেমেছে। তিনি আরও জানান, মাসুদুর রহমান শুভ্রর সাথে তার কোন রাজনৈতিক বিরোধ ছিল না কখনও।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান জানান, শুভ্র হত্যাকান্ডের ঘটনায় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদসহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিলিং মিশনে আর কারা কারা ছিল সেটিও পুলিশের কাছে এখন পরিষ্কার। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই হত্যাকান্ড বলে মনে করছে পুলিশ। তবে এর সাথে অন্য কোন ইস্যু আছে কীনা সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ ।

শুভ্র'র বয়োবৃদ্ধ বাবা ডা. সিদ্দিকুর রহমান বাবুল ও স্কুল শিক্ষক মা খালেদা বেগমের দাবি খুনী ও তার সহযোগীদের ফাঁসি দেখে যেতে চান তারা।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ভাষা সৈনিক প্রয়াত ডা. আব্দুস সোবানের নাতি তরুণ প্রজন্মের তুর্কি নেতা মাসুদুর রহমান শুভ্রর হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে দলের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধী অনুপ্রবেশকারী নেতৃত্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে বলে মনে করছেন দলের ত্যাগী নেতা কর্মী ও সমর্থকরা।