নিজস্ব প্রতিনিধি : ময়মনসিংহে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ-১, ২ ও ৩ আসনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তথ্য গোপন, ঋণ খেলাপি হওয়া, আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা, চালানের মূল কপি এবং মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এসব মনোনয়ন বাতিল করা হয়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে তিন দফায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া) আসনে নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মুহাম্মদ রাশেদুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ঋণ খেলাপি হওয়া এবং মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে তার মনোনয়ন বাতিল হয়।

ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে মোট নয়জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে সাতজনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং সাবেক সংসদ সদস্য শাহ শহীদ সারোয়ারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক চালানের মূল কপি ও মোট ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তার মনোনয়নও বাতিল হয়।

এছাড়াও ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী হাফেজ মাওলানা মো. আবু তাহের খান হলফনামায় মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং সম্পদ বিবরণী না দেওয়ায় মনোনয়ন বাতিলের মুখে পড়েন। একই সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শরিফুল ইসলামের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়, কারণ তার হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পূর্ণাঙ্গ বিবরণী ছিল না।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান জানান, যাচাই-বাছাইয়ে নানা ধরনের ত্রুটি পাওয়া যাওয়ায় তিনটি আসনের মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা আদেশের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।