কামরুজ্জামান মিন্টু,অতিথি প্রতিবেদক : ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের সম্পদ, আয় ও মামলার তথ্য প্রকাশ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩ লাখ ৬২ হাজার ৯৬৩ টাকা। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ ৪২ হাজার ৫৬৩ টাকা।
সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা মিয়া বাড়ির বাসিন্দা। তিনি সৈয়দ হারুন সালেহ ও সৈয়দা নূর ই জান্নাত জাহানারা চৌধুরী দম্পতির সন্তান।
স্থাবর সম্পদের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রিন্সের নামে ৩৩৭ দশমিক ৫ শতক কৃষিজমি রয়েছে, যার অর্জনকালীন মূল্য ৩৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৭ টাকা। এছাড়া উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি ৩২ শতক অকৃষিজমি পেয়েছেন। মায়ের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৪৭ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ লাখ টাকা।
অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে দেখা যায়, প্রিন্সের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৩৭৪ টাকা। সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, ডাক সঞ্চয়পত্র ও ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগের পরিমাণ সাত লাখ ৩ হাজার ৮১১ টাকা। বিমা ও ট্রাস্টে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে এক লাখ ৩৯ হাজার ৪৯২ টাকা। বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেলসহ যানবাহনের অধিগ্রহণকালীন মূল্য ১৯ লাখ টাকা।
এ ছাড়া তার কাছে এক লাখ ২৫ হাজার টাকার সোনা ও অন্যান্য গহনা, ৭৬ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ৮০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ৩২ শতাংশ জমির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৭ টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দুই কোটি ২৪ হাজার ৮৬৬ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আয়ের খাতে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় ২৬ লাখ ৩৬ হাজার ১০০ টাকা। নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় তিন লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে এক লাখ ৬ হাজার ৪৬৩ টাকা মুনাফা পান তিনি।
হলফনামা অনুযায়ী, প্রিন্সের স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা এমরান পৈতৃক সূত্রে চার শতক জমির মালিক, যার মূল্য ৩৫ লাখ টাকা। দম্পতির সন্তানের পেশা হিসেবে ব্যবসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্ত্রী সৈয়দা আফরোজা এমরানের সোনা বা গহনার কোনো বিবরণ হলফনামায় নেই।
হলফনামা পর্যালোচনায় আরও জানা গেছে, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সের নামে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানা, হালুয়াঘাট থানা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের পল্টন থানায় মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। হালুয়াঘাট থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। মামলাটি বিচারাধীন।









