ময়না আকন্দ : জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার বকশীগঞ্জ-মেরুরচর সড়কে আউলপাড়া নামক স্থানে একটি সেতুর সংযোগ সড়ক না থাকায় সিঁড়ি বেয়ে সেই সেতুতে উঠতে হচ্ছে। সেতুর সাথে সংযোগ সড়ক না থাকায় পৌনে ২কোটি টাকায় নির্মিত সেতুটি জনসাধারণের কোন কাজেই আসছে না। ফলে ১০টি গ্রামের মানুষ দূর্ভোগ পোহাচ্ছে।

জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে মেরুরচর গ্রাম হয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার শেষ সীমানা ব্রক্ষ্মপুত্র নদী পর্যন্ত একটি পাকা সড়ক রয়েছে। ২০১৭ সালের বন্যায় ওই সড়কের আউলপাড়া নামক স্থানে সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ২০১৮ সালের বন্যায় সেতুটির স্ত্রীজটি পুরোপুরো ভেঙে যায়। ফলে বকশীগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে মেরুরচরসহ আশপাশের ১০টি গ্রামের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে এলজিইডির অর্থায়নে ২০১৮ সালে ওই জায়গায় নতুন একটি সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২২মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটির ব্যয় ধরা হয় ১কোটি ৬৯লাখ টাকা। ২০২০ সালে মাঝামাঝি সময়ে সেতুটির র্নিমাণ কাজ শেষ হয়। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক র্নিমাণ করা হয়নি।

সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্তমানে সেতুটি ব্যবহার করতে পারছে না জনসাধারণ। ফলে মেরুরচর, ফকিরপাড়া, কলকিহারা, বাগাডুবা ও কাছিমারচর গ্রামসহ ১০গ্রাম কয়েক হাজার মানুষ চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছে। যান চলাচলেও বিঘœ ঘটছে। যান চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষকরাও তাদের কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য হাট-বাজারে নিতে পারছে না। তাই ওই ১০গ্রামের কৃষকরা তাদের ন্যায্য মুল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ওই ১০গ্রামের মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটির সংযোগ সড়ক নির্মানের দাবী জানান।

উপজেলা প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, সেতুটির র্নিমাণ কাজ শেষ হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটি হস্তান্তর করেনি। যার ফলে দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। সেতুটি হস্তান্তর করে দিলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে সংযোগ সড়ক র্নিমাণ কাজ শুরু করা হবে।

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্ত (ইউএনও) আ.স.ম জামশেদ খোন্দকার জানান, সমস্যাটি সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। আশা করি স্বল্প সময়ের মধ্যে এর একটা সমাধানও হবে।